সুনামগঞ্জ , শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬ , ১৮ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
অপরিকল্পিত বাঁধে হাওরে সর্বনাশ জলাবদ্ধতায় আক্রান্ত লক্ষাধিক হেক্টর জমির ফসল শনিবার সিলেট আসছেন প্রধানমন্ত্রী শান্তিগঞ্জে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সিসি ব্লক চুরির অভিযোগ উন্নয়ন প্রকল্পে বদলাচ্ছে ৫ বিদ্যালয়ের অবয়ব দিরাইয়ে ৬ দোকান পুড়ে ছাই ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পাশে থাকার আশ্বাস দিলেন এমপি কামরুজ্জামান কামরুল আজ মহান মে দিবস তাহিরপুরে ভাঙারখাল নদীর উপর টোল-ফ্রি বাঁশের সেতু নির্মাণ, স্বস্তি ফিরেছে জনজীবনে ৬৪৭৬ জন অমুক্তিযোদ্ধার গেজেট বাতিল ডিসি সম্মেলন শুরু ৩ মে, থাকছে ৪৯৮ প্রস্তাব সুনামগঞ্জসহ ৫ জেলায় বন্যার পূর্বাভাস আন্তর্জাতিক নৃত্য দিবস উদযাপিত জলাবদ্ধতায় তলিয়ে গেল ছায়ার হাওর কাটা ধানে গজাচ্ছে চারা জলাবদ্ধতায় ডুবছে হাওরের ধান, অসহায় কৃষক হাওরাঞ্চলের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তিন মাস সহায়তার ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর পরিস্থিতি বিবেচনায় ধাপে ধাপে ব্যারাকে ফিরবে সেনাবাহিনী: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দিরাইয়ে পৃথক দুই সংঘর্ষে আহত ৪০ হাওর বাঁচাতে আলাদা মন্ত্রণালয় গঠনের প্রস্তাব সংসদে ফজলুর রহমানের বক্তব্যে তোলপাড়

ছাতক-সিলেট রেলপথ সংস্কারে ধীরগতি

  • আপলোড সময় : ২৫-০৯-২০২৫ ১২:৩৭:৩৯ পূর্বাহ্ন
  • আপডেট সময় : ২৫-০৯-২০২৫ ১২:৪৬:১৩ পূর্বাহ্ন
ছাতক-সিলেট রেলপথ সংস্কারে ধীরগতি
শহীদনূর আহমেদ::
২০২২ সালের স্মরণকালের ভয়াবহ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল ছাতক-সিলেট রেলপথ। দীর্ঘ চার বছর বন্ধ থাকার পর সংস্কার কাজ শুরু হয়েছে।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা খুব শিগগিরই আবারো ছুটবে ট্রেন, বাজবে হুইসেল। তবে কাজের ধীরগতি নিয়েও রয়েছে শঙ্কা। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করার দাবি এলাকাবাসীর। এদিকে বৃষ্টপাতের কারণে কাজ কিছুটা বিঘিœত হলেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করা যাবে এমনই প্রত্যাশা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও রেল কর্তৃপক্ষের।
জানা যায়, ২০২১ সালের দিকে করোনা মহামারির সময় থেকে বন্ধ এই রেললাইন। এরপর ক্ষতিগ্রস্ত হয় ২০২২ সালের ভয়াবহ বন্যায়। বন্যার প্রবল স্রোতের রেলপথের একাধিক স্থানের পথ ও স্লিপার লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তখন থেকেই থেমে যায় ছাতক-সিলেট রুটের রেল চলাচল। পরিত্যক্ত হয়ে পড়ে থাকে স্টেশন। এতে আর্থিক ক্ষতির মুখের পড়েন ছাতক শিল্প এলাকার ব্যবসায়ীরা। দীর্ঘ চার বছর বন্ধ থাকার পর রেললাইন পুনঃস্থাপনে ফের সংস্কার কাজ শুরু করেছে রেল কর্তৃপক্ষ।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে ২৩০ কোটি টাকার প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়। যেখানে রয়েছে রেলাইন সংস্কারসহ স্টেশনের আধুনিকায়নসহ রাখা বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা। এদিকে রেললাইন সংস্কারের শুরু থেকে বিভিন্ন অজুহাতে ঢিমেতালে করা হচ্ছে কাজ। কাজের ধীরগতি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে দেখা দিয়েছে শঙ্কা। 
রবিউল ইসলাম নামের স্থানীয় এক ব্যবসায়ী বলেন, রেললাইন কাজ শুরু হওয়ার পর আমরা খুশি হয়েছি। কিন্তু কাজ যেভাবে হচ্ছে তা নিয়ে আমাদের যতেষ্ট শঙ্কা রয়েছে। এভাবে কাজ হলে কয়েক বছর সময় লাগবে। তিনি বলেন, সিলেট বিভাগের শিল্পাঞ্চল ছাতক, যেখানে রেললাইন স্থাপন করা হয়েছিল যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নয়ন আর পণ্য পরিবহনের জন্য। বালু, পাথর, সিমেন্টসহ নির্মাণসামগ্রী বহন হতো এই রুটে। রেল চলাচল বন্ধ থাকায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ব্যবসা-বাণিজ্যও।
স্থানীয় বাসিন্দা আক্তার হোসেন বলেন, ছাতক রেলপথ ব্যবসায়ীদের জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ। বন্যায় রেলপথ বিধ্বস্ত হওয়ায় ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হন। দীর্ঘদিন ধরে রেলপথ বন্ধ থাকার পর কাজ শুরু হওয়ায় ব্যবসায়ীরা আনন্দিত। আশা করি দ্রুত সময়ে কাজ শেষ হবে। বৃহৎ বাজেটের রেলপথের সংস্কার কাজটি বাস্তবায়ন করছে মীর আক্তার হোসেন লিমিটেড নামে ঢাকার একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।
আগামী ২০২৬ সালের মাঝামাঝি সময়ে কাজ সংস্কার কাজ শেষ করার কথা থাকলেও কাজ চলছে ঢিমেতালে। তবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের একজন কর্মচারী জানালেন, কাজের গতি ঠিক থাকলেও বৃষ্টির কারণে কাজে কিছুটা বিলম্বিত হচ্ছে।
বাংলাদেশ রেলওয়ে, ছাতক বাজার-সুনামগঞ্জ এর নির্বাহী প্রকৌশলী আহসান হাবিব বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই কাজ শেষ করতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে তাগাদা দেয়া হচ্ছে। কাজের অগ্রগতি সন্তোষজনক আছে। আমরা আশা করছি খুব শিগগিরই এই রুটে ট্রেন চলাচল শুরু হবে।
কাজের গুণগত মান ঠিক রেখে নির্ধারিত সময়ে রেলপথের সংস্কার কাজ শেষ করতে সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া বলেন, রেললাইন পুনঃস্থাপনের কাজ জেলাবাসীকে আশান্বিত করেছে। আমরা চাইবো, সংস্কার কাজটি গুণগত মান বজায় রেখে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ হবে। কেননা রেললাইনের কাজ বার বার হয় না। বিষয়টি আমরা তদারকির মধ্যে রাখবো।

নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha

কমেন্ট বক্স